banner

যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া উচিত: জিমি কার্টার

NewsWorld365 NewsWorld365 , December 1, 2016
jimmy

নিউজওয়ার্ল্ড ডেস্ক:

জিমি কার্টার যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে দ্বৈত রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন ও নিজের শাসনামলে তা বাস্তবায়নের অনেক উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। গত ২৮ নভেম্বর জিমি কার্টারের এ মতামতটি ছাপা হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসে।

পাঠকদের জন্য পুরো মতামতটির অনুবাদ করে দেওয়া হলো-

জিমি কার্টার- ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে ট্রাম্প প্রসাশনের নীতি কী হবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা এ বিষয়ে আমেরিকার অবস্থান জানি। ওবামা প্রসাশনও সে নীতিতে অটল ছিল। সেটি হচ্ছে দ্বৈত রাষ্ট্র নীতি। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নাগরিকরা যাতে পাশাপাশি দুটি দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সেজন্য ওবামা সহায়তা ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছিলেন।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান অব্যাহত থাকবে কীনা, সেটা নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগেও ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের নাগরিকদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সময় খুব কম। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে ওবামা প্রসাশন খুব ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করতে পারে। বিশ্বের ১৩৭টি দেশের মতো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রও। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া ফিলিস্তিনের জন্য অনেক সহজ হবে।

আমি প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ১৯৭৮ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মিনাখেম বেগিন ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে সাক্ষর করেছিলেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সনদ, ২৪২ ছিল এ চুক্তির মূল ভিত্তি, যা ১৯৬৭ সালের আরব ইসরায়েল যুদ্ধপরবর্তী উত্তেজনা অনেকটা কমিয়ে দেয়। (ছয় দিনের আরব ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ৫ জুন। এদিন ইসরায়েল আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করেছিল। মাত্র ছয় দিনের যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, মিশরের সাইনাই ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মাধ্যমে মিশর ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলে ইসরায়েল সাইনাই এলাকা মিশরের কাছে ফেরত দেয়। কিন্তু বাকি সব এলাকাতেই এখনো চলছে ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্ব)। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ছিল, যুদ্ধের মাধ্যমে কোনো ভূমি দখল অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, মধ্যপ্রচ্যের প্রতিটি রাষ্ট্র যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সাম্প্রতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েল তাদের সেনাদের সরিয়ে নেবে।’

ইসরায়েল ও মিশরের সংসদে বেশিরভাগ সদস্যের ভোটে এ চুক্তি পাশ হয়। সেই থেকে বহির্বিশ্বে এ ধরণের পরিস্থিতিতে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।

এ কারণে ২০০৯ সালে ওবামার প্রথম মেয়াদের ক্ষমতার সময় ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মূলনীতিগুলো ইসরায়েলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনের ভূমিতে তারা অবৈধভাবে যেসব বসতি স্থাপন করেছে, তা যেন সরিয়ে নেয়া হয় এবং একই কাজ যাতে পুনরায় আর না করে।

চুক্তির ৩৮ বছর পর এখনো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারছে না ইসরায়েল। নিজেদের ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিয়ে ইসরায়েল বসতি নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিনিয়তই ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে ইসরায়েল। দেশটি এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের যত ভূমি দখল করেছে, সেখানে প্রায় ৪৫ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস ছিল, কিন্তু এসব ফিলিস্তিনিদের ইসরায়েল নাগরিকত্বও দেয়নি। ইসরায়েল তাদের ওপর কঠোর সামরিক দমন অব্যাহত রেখেছে এবং ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকারও নেই তাদের।

অথচ ফিলিস্তিনের ভূমিতে প্রায় ৬ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন। তাদের সব ধরণের রাষ্ট্রীয় ও আইনি সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে ইসরায়েল। এত দ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে যে ইসরায়েলের গণতন্ত্র এতে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে অালোচনার মাধ্যমে দ্বৈত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এখনো সচেষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে দ্য কার্টার সেন্টার’। এ মাসেও উভয় পক্ষের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। তারা সবাই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র যদি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের জন্যও কাজটা সহজ হবে। পরবর্তীতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত সংঘাত এড়াতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আরেকটি চুক্তি হতে পারে।

সংঘাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব দিতে পারে, যেখানে আনুষঙ্গিক সব বিষয়ের উল্লেখ থাকবে। ১৯৬৭ সালের নির্ধারিত সীমান্তের পর যেসব ইসরায়েলি নাগরিক ফিলিস্তিনের ভূমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথাও উল্লেখ থাকতে হবে এ প্রস্তাবে। দুই দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও উভয়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় কীভাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়, তাও আলোচনা হতে পারে।সব পক্ষ যাতে সবসময় জেনেভা কনভেনশন ও অন্যান্য মানবাধিকার নিশ্চিত করে, সেজন্য নিরাপত্তা পরিষদে শক্ত প্রস্তাব উত্থাপন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি, জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ ও নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাশ আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। এমন উদ্যোগ ফিলিস্তিনের উদার নের্তৃত্বকেও উৎসাহিত করবে। সন্দেহ নেই সেটি একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্যও হবে একটি ইতিবাচক দিক।

ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনের নাগরিকদের উপর অবৈধভাবে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে, সেটির সমাধানে এটিই একমাত্র ও সবচেয়ে ভালো উপায়। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা পরিষদে বিল পাশকে মোটেই উগ্র পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং দ্বৈত রাষ্ট্রে প্রতিবেশিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে নীতি যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে বহু আগে, এটি শুধুমাত্র তারই প্রতিফলন হবে।

আমার জীবনের প্রথম বৈদিশক নীতিই ছিল ইসরায়েল ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের যৌখ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় আমি বলেছিলাম যারা এ শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, তাদেরকে সৃষ্টিকর্তার সন্তান বলা যায়।’

আনোয়ার সাদাত ও  মিনাচেন বেগিন তখন আমাদের উপরে ব্যালকনিতে বসা ছিলেন। সব কংগ্রেসের সদস্যরা দাঁড়িয়ে এ দু’নেতাকে সম্মান জানিয়েছিল সেদিন।

এখন ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির মূলনীতি নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি। এবারের সুযোগটি আমাদের হাতছাড়া করা উচিত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


− 3 = six

নিউজওয়ার্ল্ড৩৬৫ তথ্যসমগ্র

প্রধান সম্পাদক: জগলুল আলম ফোন: ৪১০-৩৩০-১৪৩১
সম্পাদক: আহমেদ মূসা ইমেইল: editor@newsworld365.com
বার্তা সম্পাদক: কৃষ্ণ কুমার শর্মা ইমেইল: newsed@newsworld365.com
ঢাকা অফিস: ০১৭১৯৪০০৯৯২
ইমেইল: nworld365@gmail.com
বিজনেস এক্সিকিউটিভ: সঞ্জিত ঘোষ ইমেইল: accounts@newsworld365.com
জনসংযোগ: আলী আকবর ইমেইল: news@newsworld365.com
ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্য: nworld365@gmail.com
অফিস: ৩৩-২৯ স্ট্রিট-১৩ , লং আইল্যান্ড সিটি, এনওয়াই ১১১০৬