banner

আত্মহত্যা: সমস্যার সমাধান নয় বরং সমস্যার কারণ

NewsWorld365 NewsWorld365 , January 9, 2016
suicide

কৃষ্ণ কুমার:

    তানজিনা আক্তার সুক্তি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী।অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার চার বছর কেটে গেলেও চাকরি না পাওয়ার হতাশায় গত ২০১৫ সালের ১ আগস্ট পার্থিব জীবন থেকে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে চলে যান অন্যলোকে।

পার্থিব জীবনের চিঠিপ্রাপ্তির ঠিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হলের ২৩৬ কক্ষে ৩১ ডিসেম্বর সুক্তির বরাবরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগপত্র এলো ঠিকই। কিন্তু ওই জগতের বাসিন্দা হওয়া সেই সুক্তি এ নিয়োগপত্র গ্রহণ করতে পারেননি।

অনেকদিন থেকেই চাকরির জন্য খুব চেষ্টা করছিলেন।ভালো ছাত্রী হওয়ার সুবাদে খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।বড় কোনো চাকরি করবেন। অনেক বড় অফিসার হবেন। কিন্তু বারবারই তাকে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছিল।অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসের তাড়না ও হতাশার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সুক্তি নিজেকে ওই জগতে নিয়ে গেলেন।

 ফরহাদ মণ্ডল। বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের করতোয়াপাড়া গ্রামে।চাকরি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে বাড়ির পাশের একটি আম গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে চাকরির জন্য ঘুরেও ফরহাদের কপালে চাকরি জোটেনি। এ হতাশা থেকেই সে আত্মহত্যা করে।

    গৃহবধূ বিউটি বেগম (২৫)। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা। একই উপজেলার আমবাগান গ্রামের মিঠু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০১০ সালে। দু’বছর পর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। স্বামী মিঠু মিয়া আবারও বিয়ের কথা বলে বিউটিকে কালীগঞ্জের কোলা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কলাবাগানে তার সহযোগীদের নিয়ে শারীরিক নিপীড়ন করে। এর ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হয়। হাতে হাতে পৌঁছে যায় এ ভিডিওচিত্র।লজ্জা অপমান সইতে না পেরে ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিউটি বেগম তার নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

   কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মুর্শিদ মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী হাসি আক্তার জ্যোতি (১৫) স্থানীয় সুস্মিত সুলতান (২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তার কপট প্রেম বুঝতে পারেনি জ্যোতি। মনপ্রাণ উজাড় করে দেয় সুস্মিতকে। প্রেম গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। প্রতারক প্রেমিক সুস্মিত তাদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ফেসবুকে আপলোড করে। এরপরই  লজ্জায় অপমানে জ্যোতি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এরকম আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিন। মূলত বেকারত্ব, আপন মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো, প্রতারণার শিকার হয়ে, জীবনে সফল হতে না পারার জ্বালা থেকেই এসব ঘটনা ঘটছে।সর্বোপরি প্রত্যাশার পারদের আকাশচুম্বী হওয়া, লালিত স্বপ্নের অপূর্ণতা এবং কাউকে তার নিজের বলে মনে না হওয়াতেই বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার মতো বিষয়।

আত্মহত্যা কি:

পৃথিবীর সুন্দর সব কিছুকে ফেলে স্বেচ্ছায় জীবনাবসানের নাম আত্মহত্যা। আত্মহত্যা সারা বিশ্বে একটি ভয়াবহ সমস্যা; বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আত্মহত্যা ও আত্মহননের প্রচেষ্টা মানবসভ্যতার শুরু থেকে প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। যুগে যুগে দেশে দেশে আত্মহত্যাকে কখনো উৎসাহিত, কখনো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানেও এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছা মৃত্যুর দাবি নিয়ে আন্দোলন আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞানুসারে, আত্মহত্যা হলো স্বজ্ঞানে এমন একটি ভয়ানক কাজ করা যা কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় এবং ব্যক্তি ঐ কাজের প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে পূর্ব থেকেই পুরোপুরি অবগত থাকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান নয় বরং সমস্যার কারণ।

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?:

আত্মহত্যার নানা কারণ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, মানুষের যখন জ্ঞান-বুদ্ধি-উপলব্ধি-অনুধাবন শক্তি লোপ পায়, নিজেকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, জীবন যুদ্ধে ব্যর্থতা, পারিবারিক মনোমালিন্য, যৌতুকের কারণে ঝগড়া, প্রেম-বিরহ ও মিথ্যা অভিনয়ের ফাঁদে পড়া, দীর্ঘস্থায়ী রোগ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া, শক্রর কাছে ধরা না দেয়া ইত্যাদি। তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা শুধু বড়রা করে তা নয়, শিশু-কিশোররাও করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১১ বছরের ওপরের বালক-বালিকাদের আত্মহত্যা প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বাড়ছে; বিষণ্নতা থেকেই মূলত এ আত্মহত্যাগুলো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক একটি সমীক্ষায় আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষের আচরণের মধ্যে কমপক্ষে ১১টি ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আত্মহত্যা প্রবণতার লক্ষণ প্রকাশ করা ১১টি আচরণ হলো-

১. বেশিরভাগ সময় মরে যাওয়ার কথা বলা

২. সবসময় বিষন্ন থাকা এবং মনখারাপ করে বসে থাকা

৩. অনুভূতিহীন আশা এবং বেঁচে থাকার জন্য কোনো কারণ নেই, ইত্যাদি কথা বলা

৪. নিজেকে খুব অসহায় মনে করা এবং অসহ্য মানসিক যন্ত্রণায় ভোগা

৫. সবসময় নিজেকে অন্যের ওপর বোঝা মনে করা

৬. নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়া

৭. বেশিরভাগ সময় চিন্তিত থাকা এবং বেপরোয়া আচরণ করা

৮. খুব অল্প ঘুমানো বা খুব বেশি ঘুমানো

৯. নিজেকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা

১০. প্রচণ্ড রেগে যাওয়া এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠা

১১. খুব আবেগপ্রবণ হওয়া

বাংলাদেশে আত্মহত্যার চিত্র:

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই একবিংশ শতাব্দীতে ইতোমধ্যেই পাঁচ মিলিয়ন অর্থাৎ ৫০ লাখ লোক আত্মহত্যা করেছে। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ আত্মহত্যা করছে। প্রতি বছরই গড়ে ১০ লাখের মতো লোক বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা করছে। যুদ্ধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গণত্যার চেয়ে বেশি লোক মারা যায় আত্মহত্যায়। পৃথিবীতে আত্মহত্যার গড় লাখে ১৪.৫ জন হলেও বাংলাদেশে এ হার লাখে ৮-১০ জন।

২০২০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা সাড়ে ১৫ লাখে দাঁড়াবে আর আত্মহত্যার চেষ্টা চালাবেন আত্মহত্যাকারীদের সংখ্যার ১০ থেকে ২০ গুণ (২ থেকে ৩০ কোটি) মানুষ।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুসারে বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রবণতার পরিসংখ্যান আরো ভয়াবহ। দেশের ৬০ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে এক রিপোর্টে বলা হয়েছে।আত্মহত্যা প্রবণতার বিশ্ব র‌্যাংকিং-এ যেখানে ২০১১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৮তম, সেখানে গত বছরের হিসাবে বাংলাদেশ দশম স্থানে উঠে এসেছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মহত্যায় গোটা বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, বাংলাদেশের অবস্থান দশম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় আত্মহত্যার হার বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশি। ভারতে প্রতি দুই মিনিটে একজন আত্মহত্যা করে। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ। আর বাংলাদেশে তা ১০ হাজার ১৬৭ জন। এদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৭৩ জন নারী ও চার হাজার ৩৯৪ জন পুরুষ।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ছয় বছরে ৫৯ হাজার ৭৬০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা:

আত্মহত্যাকে বাংলাদেশের একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। দেশে হঠাৎ করেই আত্মহত্যার হার বেড়ে গেছে। শুধু অশিক্ষিতদের মধ্যে নয় এখন শিক্ষিত সমাজেও আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক।

বিভিন্ন গবেষকের প্রাপ্ত উপাত্ত মতে, এ দেশে নারীরা পুরুষদের তুলনায় আত্মহত্যা বেশি করে। অথচ উন্নত দেশগুলোতে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যা করার হার বেশি। আমাদের দেশে ছাত্রী, গৃহবধূ ও কম শিক্ষিতদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেশি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার হার আশঙ্কাজনক। সাম্প্রতিক সময়ের সংবাদপত্রগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে আত্মহত্যার ব্যাপকতা আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এবং প্রায়ই একক আত্মহত্যার পাশাপাশি দলগত মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ধারণা করা হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তিত ধারা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন, দৈনন্দিন জীবনের নানা ধরনের জটিলতা যেমন-পারিবারিক ও নিজস্ব সংকটাপন্ন অবস্থা এবং প্রচলিত বিশ্বাস, সামাজিক আচার-আচরণ, কৃষ্টি প্রভৃতি সামলে চলতে গিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভিন্ন স্ববিরোধিতা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই এ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া বা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলার পরিবর্তে এসব অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। স্কুল-কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক মেধাবী ছাত্রীরা আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে। মুহূর্তের ভেতর সব স্বপ্নকে ভেঙে ফেলছে। পরিবারের পাশাপাশি দেশ হারাচ্ছে সম্ভাবনাময় এক মেধাবী নাগরিক। সামান্য কিছুর জন্যও কেউ কেউ আত্মহত্যা করছে। বাবা মায়ের বকুনি খেয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে যা কখনো কাম্য হতে পারে না। পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে একে অপরের প্রতি আরো সহানুভূতির সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। কারো কোনরকম সমস্যা দেখা দিলেই তার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এর মধ্যে পারিবারিক সমস্যার কারণে যেমন দাম্পত্য কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুক, পরকীয়া প্রেম গৃহবধূদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটায়। এছাড়া প্রেমে ব্যর্থতা, পরীক্ষায় পাস না করা, দারিদ্র্য, অযাচিত গর্ভধারণ, মেলামেশা কম করার প্রবণতা এবং আত্মহত্যার উপকরণের (কীটনাশক, ঘুমের ট্যাবলেট) সহজপ্রাপ্যতা, বেকারত্ব ইত্যাদি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে। বিগত কয়েক বছরে অল্পবয়সী তরুণী ও স্কুলগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ফলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব আত্মহত্যাকারীর মধ্যে এক বিরাট অংশ মৃত্যুকালীন কোনো না কোনো মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয় বলে গবেষকদের অভিমত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্যক্তিত্বের সমস্যা, বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, মাদকনির্ভরতা, তীব্র মানসিক চাপ ইত্যাদি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রোগযন্ত্রণার শিকার হয়েও কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। যে ব্যক্তি কথাচ্ছলে মৃত্যুর ইচ্ছে ব্যক্ত করে, ধরে নিতে হবে তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। সে কারণে কারও মৃত্যু সংক্রান্ত কথাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল অব মেডিসিন-এর জানুয়ারি ২০১৩-তে প্রকাশিত ‘রিস্ক ফেক্টরস অব সুইসাইড প্যারা রুরাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। এর মধ্যে নারী ৬১ ভাগ ও পুরুষ ৩৯ ভাগ।

গবেষণায় বলা হয়েছে, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার কম। শহরাঞ্চলে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে প্রতারণার শিকার হয়ে আর গ্রামাঞ্চলে মূল কারণ যৌতুক। এ ছাড়া এখন অল্পবয়স্ক মেয়েরাও উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করছে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সম্ভাব্য উদ্যোগ:

আত্মহত্যার মাধ্যমগুলোর প্রতি চোখ রাখতে হবে। যেহেতু আমাদের দেশে বিষপানে আত্মহত্যা করে বেশি লোক, তাই এসব উপকরণ দুষ্প্রাপ্য করতে হবে। বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন ও নাটক সিনেমার মাধ্যমে আত্মহত্যার ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে বিষণ্নতা ও ড্রাগসেবীদের ব্যাপারে আলোকপাত করতে হবে। তবে মিডিয়াকে অবশ্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন একই রিপোর্ট বারবার প্রচার না হয়। এটা হিতে বিপরীত হতে পারে।

মানসিক ও শারীরিক রোগীদের সময়মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন। রোগী নিজের বা আত্মীয়স্বজনেরা উদাসীনতা অবশ্যই এসব ক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে। যারা আত্মহত্যার কথা বলে তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হাসপাতাল ও কিনিকের জরুরি বিভাগগুলোতে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীদের জরুরি চিকিৎসা দেয়ার বন্দোবস্ত থাকতে হবে।

আত্মহত্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংস্থা গোষ্ঠী প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে। পারিবারিক কলহ-বিবাদ মেটানো বা কমানোর জন্য সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বাড়াতে হবে। এটা এক দিনে হয় না। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রয়োজন। আত্মহত্যা কমানোর জন্য একটা জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা এখনই প্রয়োজন। তাহলে অনেক কিছুই খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। যে কারণে সমাজ বা পরিবারে কলহ হানাহানি তা কমিয়ে আনতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে গোষ্ঠীস্বার্থকে। সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতার উদাহরণ সৃষ্টি করে আত্মহত্যার ইচ্ছাপোষণকারীকে ভালোবাসতে তাকে তার অবস্থানে সন্তুষ্ট রাখতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন সবার মানসিক গড়ন এক নয়। তাই রাগ, ক্ষোভ, আবেগও ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন।

এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে বন্ধ করতে হবে। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি, শিক্ষার হার বাড়ানো, বেকারত্ব কমানো, নেসার উপকরণ দুষ্প্রাপ্য করা, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে অটুট রাখার জন্য সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকল্প নেই।পাশাপাশি আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবে জাপান অর্থনৈতিকভাবে একটা সমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আত্মহত্যার হার বাংলাদেশের তিন গুণ। ধর্ম যেহেতু সন্তানের অধিকার, পিতামাতার অধিকার, আত্মীয়তার বন্ধন, প্রতিবেশীর অধিকার ও অন্যের অগ্রাধিকারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের বলে দেয়, তদ্রুপ অর্থনৈতিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ব্যবস্থা করে। ধর্মীয় অনুশাসনই আমাদের ধৈর্যশীল, অনুগত, দরদি, সহনশীল ও ত্যাগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

আত্মহত্যার ইচ্ছাপোষণকারী ব্যক্তিকে ঘৃণা বা অবজ্ঞা না করে তাকে ভালোবাসতে পারলে সে মনে করবে পৃথিবী আর যন্ত্রণার স্থান নয়, এটা আনন্দের স্থান অতএব বেঁচে থাকাটা খুবই দরকার।

কৃষ্ণ কুমার: সাংবাদিক, নিউজওয়ার্ল্ড৩৬৫.কম, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


+ 1 = eight

নিউজওয়ার্ল্ড৩৬৫ তথ্যসমগ্র

প্রধান সম্পাদক: জগলুল আলম ফোন: ৪১০-৩৩০-১৪৩১
সম্পাদক: আহমেদ মূসা ইমেইল: editor@newsworld365.com
বার্তা সম্পাদক: কৃষ্ণ কুমার শর্মা ইমেইল: newsed@newsworld365.com
ঢাকা অফিস: ০১৭১৯৪০০৯৯২
ইমেইল: nworld365@gmail.com
বিজনেস এক্সিকিউটিভ: সঞ্জিত ঘোষ ইমেইল: accounts@newsworld365.com
জনসংযোগ: আলী আকবর ইমেইল: news@newsworld365.com
ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্য: nworld365@gmail.com
অফিস: ৩৩-২৯ স্ট্রিট-১৩ , লং আইল্যান্ড সিটি, এনওয়াই ১১১০৬